প্রসঙ্গ কথা

نحمده ونصلي علي رسوله الكريم اما بعد فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم .بسم الله الرحمان الرجيم .ان الذين امنوا وعملوا الصالحات لهم جنت تجري من تحتها الأنهار.ذالك الفوز الكبير ..
وقال رسول الله صلي الله عليه و سلم ..؛ اخلص دينك يكفك العمل القليل …او كما قال عليه السلام..

মুসলিম! জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত খুবই গুরুপূর্ণ,বছরের প্রতিদিনই আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সময়। সে সময় যদি কেটে যায় হেলায়- খেলায় আর অবহেলা – অলসতায়, তবে এর ক্ষতি পূরণ কোনভাবেই সম্ভব নয়। বুঝুর্গানে দ্বীনের ছিল আমলী জীবন,আমলই ছিল তাঁদের হাতিয়ার।কারণ আল্লাহ তা’আলা এ ধরায় মানুষকে পাঠিয়েছেন আমল করে অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগী করে তাঁকে রাজি-খুশি করার জন্য। তাই তো ইরশাদ হচ্ছে….. وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون۔۔ অর্থাৎ আমি জিন্ন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে। আমি তাদের কাছে কোনো রকম রিজিক চাই না এবং একটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিক। আল্লাহ তা’আলা নিজেই তো রিজিকদাতা এবং তিনি প্রবল পরাক্রমশালী। ( সূরা ঝারিয়াত আয়াত নং ৫৬,৫৭,৫৮.) আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হবেন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ মোতাবেক আমল/ইবাদত করতে পারলে।তাই আল-কুরআন কারীমের কিছু সূরা ও আয়াত বইটিতে সন্নিবেশিত করত ; সূরার শুরুতে হাদীস ও গ্রহনযোগ্য কিতাব থেকে তার আমল ও ফযিলত বর্ননা করা হয়েছে। এ জন্য বইটির নামকরণ করা হয়েছে “দৈনন্দিন জীবনে কিছু সূরার আমলসমূহ (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে)”। বক্ষমান বইটি রচনার দুইটি উদ্দেশ্যঃ-( ১) নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পূর্বে-পরে যে, সূরাগুলো আমল করেছেন,আমাদেরকে আমল করতে উৎসাহিত করেছেন এবং ফজীলত বর্ননা করেছেন, সে সূরাগুলোর আমলে নিয়ে আসা। (২) আর কুরআনুল কারীমের হক্ব তেলাওয়াত করা যেন আমলের মধ্য দিয়ে তা ও আদায় হয়ে যায়। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা! আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের মাকবুল দোয়ায় ভুলবেন না দোয়া করতে এ মোবারক বই,লেখক ও যারা বইটি প্রকাশে শ্রম ও সহযোগিতা করেছেন সবাইকে। হতে পারে, অজানা-অচেনা কোনো প্রিয় পাঠকের আন্তরিক প্রার্থনাই আমাদের নাজাতের মাধ্যম । ৷ পরিশেষে, মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা, এবইটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য উপকারী বই হিসাবে কবুল করুন, সকল পাঠককে দৈনন্দিন জীবনে নবীযির সুন্নাত ও আদর্শ অনুসরণের তাওফীক্ব দান করুন। বইকে সকলের পরকালের পাথেয় বানিয়ে দিন আমীন ছুম্মা আমীন। সর্বপরি আরজ,, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মূল্যবান বইটি ত্রুটিমুক্ত ও সর্বাঙ্গীন সুন্দর করার চেষ্টা করেছি। তবুও ভুল-ত্রুটি থেকে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাই যদি কেউ কোনো ভুল বা অসংগতি সম্পর্কে অবগত হন। তবে আমাদেরকে অবগত করলে “ইনশা আল্লাহ ” পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করে নেব।

বিনীত

বান্দা মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন

জামি’আ ইসলামিয়া বাইতুল আমান

রোড নং ১৬, বাইতুল আমান হাউজিং, আদাবর, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭।

  1. কুরআন তিলাওয়াতের জাহেরীও বাতেনী আদবসমূহ……………১৩
  2. সূরা ফাতিহার ফযীলত ও আমল……১৪
  3. সূরা ফাতিহা..
  4. সূরা বাকারারহর ২৫৫নং আয়াতের ফযীলত ও আমল…
  5. সূরা বাকারার ২৫৫নং আয়াত….
  6. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফযীলত ও আমল….
  7. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত…
  8. সূরা কাহাফের ফযীলত ও আমল…..
  9. সূরা কাহাফ…
  10. সূরা সাজদাহের ফযীলত ও আমল…
  11. সূরা সাজদাহ…
  12. সূরা ইয়াসীনের ফযীলত ও আমল…
  13. সূরা ইয়াসীন…
  14. সূরা দুখনের ফযীলত ও আমল…
  15. সূরা দুখন…
  16. সূরা ফাতাহের ফযীলত ও আমল…
  17. সূরা ফাতাহ…
  18. সূরা আর রহমানের ফযীলত ও আমল….
  19. সূরা আর রহমান…
  20. সূরা ওয়াকেয়ার ফযীলত ও আমল…
  21. সূরা ওয়াকেয়া…
  22. সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফযীলত ও আমল..
  23. সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত…
  24. সূরা মুলকের ফযীলত ও আমল…
  25. সূরা মুলক…
  26. সূরা মুজ্জাম্মিলের ফযীলত ও আমল…
  27. সূরা মুজ্জাম্মিল…
  28. সূরা দাহারের ফযিলত ও আমল…
  29. সূরা দাহার….
  30. সূরা নাবার ফযীলত ও আমল…
  31. সূরা নাবা….
  32. সূরা আলাম-নাশরাহের ফযীলত ও আমল…
  33. সূরা আলাম- নাশরাহ…
  34. সূরা যিলযাল ও সূরা কাফিরুনে ফযীলত ও আমল…
  35. সূরা যিলযাল ও সূরা কাফিরিন…
  36. সূরাইখলাছ,সূরা ফালাক্ব, সূরা নাছের ফযীলত ও আমল…
  37. সূরা ইখলাছ,সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস…
  38. ইস্তিখারার নামাযের নিয়ম ও দোয়া…
  39. দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগলে এই দোয়া পড়া…
  40. সালাতুত তাসবীহ পড়ার নিয়ম ও দোয়া…
  41. শবে ক্বদরের দোয়া…
  42. সফরে বের হওয়ার দোয়া…
  43. সফর থেকে বাড়ি ফিরার দোয়া…
  44. মানুষের দশটিগুন ও দশটি দোষ…
  45. গোনাহে কবীরাহর বর্ননা…
  46. গুনাহের ক্ষতিসমূহ…
  47. কুরআন শরীফ হিফয করার দোয়া…
  48. ফরজ নামাজের পর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পঠিত বিশেষ যিকিরসমূহ…
  49. দোয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও আদব…
  50. ব্যাপক অর্থবহ দোয়া…
  51. মুনাজাত….

সাহাবীদের আলোকিত জীবন

প্রথম খন্ড

দাম মাত্র ২৮০৳

২৫% ছাড় মূল্য ২১০৳

সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী (রা)

‘সাঈদ ইবনে আমের এমন মহান ব্যক্তি, যিনি দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাত ক্রয় করে নিয়েছেন। সমস্ত লোভ-লালসা এবং অন্য সবকিছুর চাইতে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’
ঐতিহাসিকদের মন্তব্য
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী খুবাইব ইবনে আদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে মক্কার কুরাইশ নেতারা বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে বন্দী করে তানঈম নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত নির্মম ও অমানুষিক অত্যাচারের মাধ্যমে হত্যা করে। সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী ছিল মক্কার সেইসব যুবকদের অন্যতম, যারা কুরাইশ নেতাদের আহবানে এই নির্মম ফাসির দৃশ্য দেখতে গিয়েছিল। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ওপর কুরাইশ নেতৃবৃন্দ অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েও তাঁকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। পরিশেষে তারা তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
তারুণ্যে উচ্ছল সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী নারী পুরুষদের প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে আবু সুফিয়ান ও সাফওয়ান ইবনে উমাইরের মতো কুরাইশ নেতৃবৃন্দের পাশে গিয়ে উপস্থিত হয়। খুবাইব ইবনে আদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর শাহাদাতের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু
সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী (রা)
১৭তাআলা আনহুর হাত পা শিকলে বেঁধে ফাঁসির মঞ্চের দিকে অগ্রসর হওয়ার কালে মক্কার নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবকের দল তাঁকে ধাক্কা দিতে দিতে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যেতে থাকে। উপস্থিত নির্মম জনতা করতালি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছিল। সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী একটি উঁচু টিলায় দাঁড়িয়ে এ নির্মম দৃশ্য দেখছিল । নির্মম কুরাইশরা আজ এ হত্যার মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের সীমাহীন হিংসা-জিঘাংসা চরিতার্থ করছে এবং বদরের যুদ্ধে তাদের নিহতদের হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই তারা খুবাইব ইবনে আদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত করেছে। কাফিরদের জিঘাংসার মন খুবাইবের খুনের নেশায় উন্মাদ হয়ে উঠল। চারদিকে কাফিররা তুমুল হর্ষধ্বনি দিয়ে হিংস্র ও বর্বর উল্লাসে ফেটে পড়ল। আল্লাহর রাহে নিবেদিত, মযবুত ঈমানী চেতনায় বলীয়ান খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার জন্যে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। কাফিরদের এ নির্মম নির্যাতনে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। প্রচণ্ড শোরগোলের মাঝে হঠাৎ সাঈদ ইবনে আমের আল জুমাহী শুনল যে, খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কন্ঠ থেকে একটি শান্ত ও ধীরস্থির, খোদায়ী শক্তিতে বলীয়ান এক তেজোদীপ্ত আওয়ায বের হলো :إن شئتم أن تتركوني اركع ركعتين قبل مصرعى فافعلوا তোমরা অনুমতি দিলে ফাঁসি দেওয়ার আগে আমি দু’রাকাআত নফল নামায আদায় করতে চাই।’সাঈদ এ আওয়াজ শোনামাত্রই প্রবল আগ্রহে ফাঁসির মঞ্চের দিকে তাকাল এবং দেখতে পেল খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কিবলামুখী হয়ে দু’রাকাআত নামায আদায় করছেন। কী সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক তাঁর সেই নামায ধীর স্থিরভাবে স্বল্প পরিসরে তিনি দু’রাকায়াত নামায আদায় করে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বললেন :والـلـه لولا أن تـظـوا أنى أطـلـت الـصـلـوة جـزعـا من المـوت لاستكثرت من الصلوة . আল্লাহর শপথ! আমি মৃত্যুর ভয়ে নামায দীর্ঘায়িত করছি, তোমরা এ ধারণা করবে বলে মনে না হলে আমি আমার নামায আরো দীর্ঘ করে পড়তাম।’ ১৮ * সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন (প্রথম খণ্ড)

দ্বিতীয় খন্ড

দাম মাত্র ২৮০৳

২৫% ছাড় মূল্য ২১০৳

সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা)
হে আল্লাহ, তুমি যদিও আমাকে এই উত্তম দীন থেকে বঞ্চিত করেছ, কিন্তু আমার ছেলে সাঈদকে এই দীন থেকে বঞ্চিত করো না। -সাঈদ (রা)-এর পিতা যায়েদের দু’আ
যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল জন-কোলাহল থেকে বেশ দূরে অবস্থান নিয়ে কুরাইশদের কোনো এক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি দেখছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন, পুরুষেরা দামি দামি রেশমি পাগড়ি মাথায় বেঁধে ইয়ামেনের তৈরি গাউন পরিধান করে অনুষ্ঠানে ঘোরাফিরা করছে। মহিলারা ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রং-বেরঙের জামা, কাপড়-চোপড় ও বিচিত্র অলংকারাদি পরিধান করে দলবদ্ধভাবে সমবেত হচ্ছে ও মেলার শোভা বর্ধন করছে। সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা নানা বয়সের ও নানা ধরনের পশুকে রঙিন সাজে সজ্জিত করে দেবতার সন্তুষ্টির জন্য বলি দেওয়ার উদ্দেশ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল খানায়ে কা’বার দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে এসব দৃশ্য দেখছিলেন। এক পর্যায়ে কুরাইশদের সম্বোধন করে বলতে থাকলেন :
‘হে কুরাইশ সম্প্রদায়! ভেড়া বকরির স্রষ্টা হলেন আল্লাহ্। আকাশ থেকে তাদের জন্য আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানি ও ঘাস দিয়েছেন, যা খেয়ে ওরা জীবন ধারণ করে। তোমরা কেন ওগুলোকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে বলি দিচ্ছ? তোমরা বড়ই অজ্ঞ ও মূর্খ।’
এ কথা শোনামাত্র তাঁর চাচা, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর পিতা খাত্তাব ভীষণ রেগে যায় এবং তাকে সজোরে চপেটাঘাত করে বলে :
সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা) ২৭
‘তুই নিপাত যা! এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা এর আগেও তোর মুখ থেকে বহুবার শুনেছি। প্রতিবারই আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। এখন আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়েছে।’
খাত্তাবের এ বকাবকি ও চপেটাঘাতের সুযোগে তারই স্বগোত্রীয় নির্বোধেরা নুফাইলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রহার করতে করতে তাকে মক্কা থেকে বের করে দেয়। তিনি হেরা পর্বতে আশ্রয় নেন খাত্তাব কুরাইশ গোত্রের দুষ্ট ছেলেদের বলে দেয়, তোমরা প্রহরায় থাকবে, যাতে সে মক্কায় প্রবেশ করতে না পারে। তাই গোপনে সবার দৃষ্টি এড়ানো ছাড়া যায়েদ ইবনে আমর মক্কায় প্রবেশ করতে পারতেন না।
যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল ক্ষান্ত হওয়া বা থেমে যাওয়ার মতো পুরুষ ছিলেন না। তিনি কুরাইশদের নজর এড়িয়ে ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল, আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ, উসমান ইবনে হারেস, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফুফু উমাইয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিবের সাথে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করতে থাকেন ও শিরকে নিমজ্জিত কুরাইশদের ব্যাপারে সমালোচনা করতে থাকেন। যায়েদ তাদেরকে বলেন :
‘আল্লাহর শপথ! তোমরা এটা ভালো করেই জান যে, তোমাদের জাতি মূর্খতা ও অজ্ঞতায় নিমজ্জিত। তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সাথে দীনে ইবরাহীমের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে তোমরা দীনে ইবরাহীমের বিপরীতে চলছ। যদি তোমরা নাজাত পেতে চাও, তাহলে তোমরা নতুন কোনো ধর্মের সন্ধান কর।’
কুরাইশদের এই চার গুণীজন ইহুদী ও খ্রিস্টানসহ সমসাময়িক অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের কাছে গিয়ে ধর্ম সম্পর্কে জানার আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দীনে হানীফের সন্ধান করতে থাকেন।
তাদের মধ্য থেকে ওয়ারাকা ইবনে নাওফেল খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ ও উসমান ইবনে হারেসের মন আকৃষ্ট হয়নি প্রচলিত কোনো ধর্মের প্রতি। যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল এর নতুন ধর্ম সন্ধানের ব্যাপারে এক – চমৎকার ঘটনা রয়েছে। তার নিজ বর্ণনা থেকেই সে ঘটনা অবগত হোন। যায়েদ
২৮ * সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন (দ্বিতীয় খণ্ড)
ইবনে আমর ইবনে নুফাইল বলেন :
‘আমি ইহুদী ও খ্রিস্টান পাদ্রিদের সান্নিধ্যে গিয়ে তাদের কাছে আমার মনের আবেগ প্রকাশ করি; কিন্তু মনকে প্রশান্তি দেওয়ার মতো কোনো আকীদা-বিশ্বাসের সন্ধান তাদের কাছে পাইনি। অতঃপর আমি সবখানে মিল্লাতে ইবরাহীমের সন্ধান করতে থাকি। এ অনুসন্ধানেরই এক পর্যায়ে আমি সিরিয়ায় পৌছি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি এক পাদ্রির কাছে আসমানী কিতাবের শিক্ষা রয়েছে। ঐ পাদ্রির সান্নিধ্যে গেলাম। তাকে আমার মনের কথা খুলে বললাম।’
তিনি বললেন:
‘হে মক্কার ভাই, আমার ধারণা যে, তুমি দীনে ইবরাহীমের সন্ধান করছ।’ উত্তর দিলাম :
‘হ্যা, সেটাই আমার জীবনের একমাত্র কাম্য।’ তিনি বললেন :
‘তুমি এমন একটি ধর্মের সন্ধান করছ, যা বর্তমানে হারিয়ে গেছে। তুমি আর ঘোরাফেরা না করে মক্কায় চলে যাও। আল্লাহ শীঘ্রই তোমাদের গোত্রে এমন এক নবী প্রেরণ করবেন, যিনি দীনে ইবরাহীমকে তোমাদের কাছে পেশ করবেন। যদি তোমার জীবদ্দশায় তাকে পেয়ে যাও নিঃসন্দেহে তার অনুসরণ করো।’
একথা শুনে যায়েদ দ্রুত মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। মক্কায় তার আগমনের পূর্বেই আল্লাহ দীনে হক ও হেদায়াতসহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যায়েদের সাক্ষাৎ হলো না। কারণ, বেদুইন দস্যুদের একটি দল তাকে পথে আক্রমণ করলে তিনি পথেই জীবন হারান। এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দর্শন থেকে তার চক্ষুদ্বয় বঞ্চিত থাকে। যায়েদ অন্তিম অবস্থায় আকাশের দিকে তাকিয়ে সর্বশেষ যে কথাগুলো উচ্চারণ করতে থাকেন তা হলো
‘হে আল্লাহ! আমাকে যদিও এই কল্যাণ থেকে তুমি বঞ্চিত করলে, আমার ছেলে সাঈদকে তা থেকে বঞ্চিত করো না।’ কিন্তু
সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা) ● ২৯

হে মুসলিম বোন আমার

মেয়েদের জন্য খুবই অসাধারণ একটি বই,যার তুলনা হয় না!!

বই পড়ুন জীবন গড়ুন

দাম মাত্র ৩০০৳

৪২% ছাড় মূল্য ১৭৪৳

হে মুসলিম বোন আমার

এক সময়ের অর্ধ পৃথিবী বিজয়ীর বেশে শাসনকারী গর্বিত উম্মাহ বর্তমান পৃথিবীর সর্বাধিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার। আর সেই নির্যাতনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো আমাদের সম্মানিতা নারীগণ। অথচ এই নারীরাই ছিল মুসলিম বীর সিংহশার্দুলদের বীরত্বের শক্তি ও প্রেরণার উৎস। এই নারীই ছিল যুগের শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও মুহাদ্দিসা।
এই নারীই ছিল সেই বীরাঙ্গনা যে তার একটি দু’টি নয়, তিনটি সন্তানকে স্বীয় কবিতার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে একসাথে ময়দানে জিহাদে পাঠিয়ে তিন শহীদের গর্বিত মা হওয়ার মহা সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। এই নারীই একদিন নবীপ্রেমে আত্মহারা হয়ে একই যুদ্ধে নিজের বাপ ভাই ও সন্তানের শাহাদাতের শোকার্ত সংবাদ হাসিমুখে বরণ করে ঈমানী গায়রতের সোনালী ইতিহাস রচনা করেছিলেন।
এই নারীই একদিন দীনের জন্য পাগলপারা হয়ে নিজের মাথার চুলের বেনী কেটে মুজাহিদদের ঘোড়ার লাগাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য পেশ করে জিহাদের জন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উৎসর্গ করে ত্যাগ ও কুরবানীর গৌরবময় ইতিহাস রচনা করেছিলেন। এই নারীই একদিন দীনের জন্য নিজের কলিজার টুকরো দুধের শিশু সন্তানকে জিহাদের জন্য পেশ করে মাতৃপ্রেমের উপর দীনের প্রেম ও জিহাদের মহব্বতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
তাইতো কবি বলেছেন-
“কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী
শক্তি দিয়েছে প্রেরণা দিয়েছে মুসলিম বীরাঙ্গনা নারী।”
কিন্তু আফসোস! আজ আমাদের মা-বোনেরা ভুলেই গিয়েছে, যে তারা কাদের উত্তরসূরি এবং কে তাদের আদর্শ। তাইতো আমাদের মুসলিম বোনেরা আজ আম্মাজান আয়শা রাদিআল্লাহু আনহা, হজরত খাওলা ও খানসা রাদিআল্লাহু আনহাদের আদর্শকে ভুলে নগ্নতা আর বেহায়পনার মূর্তপ্রতীক জাহান্নামের নিকৃষ্ট কীট বর্তমানের গায়ক-গায়িকা আর নায়ক-নায়িকাদেরকে আদর্শ বানিয়ে দলে-দলে জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। এই ভয়াল থাবা থেকে আমাদের মুসলিম মা-বোনদেরকে রক্ষা করে চিরসুখের নীড় ও অনন্ত শান্তি-সুখের সবুজ মোহনা জান্নাতের দিকে আহবানের ক্ষুদ্র এক সৎ ও সাহসী প্রয়াস “হে মুসলিম বোন আমার”।
বইটি মূলতঃ আফগান জিহাদের তেজোদীপ্ত সিংহপুরুষ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও সাহসী কলম সৈনিক, পাকিস্তানের সুপ্রসিদ্ধ মুজাহিদ ও মজলুম আলেমে দীন, মুহতারাম মুফতি খুবাইব হাফি.-এর রচিত ” আয় মুসলমান বেহেন”-এর বাংলা অনুবাদ। লেখক যদিও গ্রন্থটি লিখেছেন মা-বোনদের উদ্দেশ্যে, তবে অনুবাদ করতে গিয়ে আমার নিকট মনে হয়েছে গ্রন্থটি মা-বোনদের আগে আমাদের পুরুষদেরই পড়া উচিত। সুতরাং এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, এ গ্রন্থ দ্বারা যেমনিভাবে আমাদের নারীগণ উপকৃত হবে ঠিক তেমনিভাবে আমরা পুরুষরাও সমানভাবে উপকৃত হবো ইন শা আল্লাহ।
 

বি:দ্র: হে মুসলিম বোন আমার বইটি free pdf download করিতে চাহিয়া লেখকদের নিরুৎসাহিত করিবেন না

দুআ প্যাকেজ

দুআ প্যাকেজ
৳ 520

দুআর শক্তি অপরিসীম ; শুধুমাত্র দুআ-ই পারে তাকদীর বা ভাগ্যের লিখনকে বদলে দিতে। (তিরমিযি, ২১৩৯)
রাসূল সা. আমাদের শিখিয়েছেন কখন কীভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে হয়, নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে হয়। দুআ বিষয়ক কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদীসের দ্বারা সাজানো গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি বইর সমন্বয়ে আমরা সাজিয়েছি দুআ প্যাকেজ। যে বইগুলোতে দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত মাসনুন দুআ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যসব দুআও বর্ণিত আছে।

তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন

তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন

এই তাফসীর গ্রন্থের একটি বিশেষ দিক হল আয়াতের পাশেই বাংলা অনুবাদ দেয়া আর প্রয়োজনীয় জায়গায় ব্যাখ্যাসহ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন আয়াতের শানে নুযুল বর্ণনা করা হয়েছে যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজবোধ্য। বিস্তারিত ব্যাখ্যা আর তাত্বিক কথা দিয়ে কলেবর বৃদ্ধি করা হয়নি। যেসব আয়াতের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে সেসব আয়াতের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেন কারো বুঝতে অসুবিধা না হয়। তাই বলব যারা কুরআনের অর্থ বুঝতে চান তারা সাধারণ বঙ্গানুবাদসহ কুরআন না কিনে এই সংক্ষিপ্ত তাফসীর টি কিনে পড়তে পারেন। এতে একদিকে অর্থ জানাও হয়ে যাবে, অপরদিকে শানে নুযূল ও সংক্ষিপ্ত তাফসীরও জানা যাবে।এই তাফসীর গ্রন্থের একটি বিশেষ দিক হল আয়াতের পাশেই বাংলা অনুবাদ দেয়া আর প্রয়োজনীয় জায়গায় ব্যাখ্যাসহ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন আয়াতের শানে নুযুল বর্ণনা করা হয়েছে যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজবোধ্য। বিস্তারিত ব্যাখ্যা আর তাত্বিক কথা দিয়ে কলেবর বৃদ্ধি করা হয়নি। যেসব আয়াতের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে সেসব আয়াতের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেন কারো বুঝতে অসুবিধা না হয়। তাই বলব যারা কুরআনের অর্থ বুঝতে চান তারা সাধারণ বঙ্গানুবাদসহ কুরআন না কিনে এই সংক্ষিপ্ত তাফসীর টি কিনে পড়তে পারেন। এতে একদিকে অর্থ জানাও হয়ে যাবে, অপরদিকে শানে নুযূল ও সংক্ষিপ্ত তাফসীরও জানা যাবে।
Design a site like this with WordPress.com
Get started